রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস কী
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (Rheumatoid Arthritis) একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহজনিত রোগ, যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। এটি এক ধরনের অটোইমিউন (Autoimmune) রোগ। মানে শরীরের নিজের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে নিজের কোষ ও কলাকে শত্রু ভেবে আক্রমণ করে। আক্রমণের ফলে প্রদাহ হয় এবং কোষ নষ্ট হতে থাকে।
প্রথমে হাত ও পায়ের ছোট জয়েন্টগুলো আক্রান্ত হয়, পরে শরীরের প্রায় সব কোষ ও কলা আক্রান্ত হতে পারে। এটি সারা জীবনের রোগ। চিকিৎসার পরেও রোগ বাড়তে পারে। পুরোপুরি সারে না, তবে ওষুধ ও সঠিক নিয়মে রোগকে দমিয়ে রাখা যায়।
কেন হয়
সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে ঝুঁকি বাড়ায় এমন কিছু বিষয় আছে।
- নারী হওয়া: প্রায় ৭০ ভাগ রোগী নারী। ইস্ট্রোজেন হরমোনের ভূমিকা আছে বলে ধারণা
- পারিবারিক ইতিহাস: মায়ের রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস থাকলে মেয়ের হওয়ার সম্ভাবনা বেশি
- বয়স: সাধারণত ৩০ থেকে ৬০ বছর, তবে যে কোনো বয়সে হতে পারে
- কিছু ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, যেমন দাঁতের সংক্রমণ বা শরীরে দীর্ঘদিনের কোনো সংক্রমণ
- কিছু ভাইরাসের সংক্রমণ
- জয়েন্টে প্রায়ই অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম লাগানো
- বড় ধরনের আঘাত, যেমন হাড় ভাঙা, জয়েন্ট সরে যাওয়া, রগ বা লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়া
- ধূমপান
- ওজন বেশি হওয়া
- অতিরিক্ত মানসিক চাপ
- বেশি লাল মাংস ও তেল খাওয়া
পরিবেশের কিছু কারণ: বায়ুদূষণ, ধূমপান, কীটনাশকের সংস্পর্শ, ডিজেল, কেরোসিন বা পেট্রোলের সংস্পর্শ, অ্যাসবেস্টস ও বালিকণা।
কোন কোন অঙ্গ আক্রান্ত হতে পারে
হাত ও পায়ের ছোট জয়েন্টগুলো প্রথমে আক্রান্ত হয়, তবে শরীরের সব জয়েন্টই আক্রান্ত হতে পারে। এছাড়া আক্রান্ত হতে পারে:
- হাড়ের সঙ্গে লাগানো মাংসপেশি
- ফুসফুস
- চোখ
- চামড়া
- হৃদপিণ্ড
- রক্তনালী (ভাসকুলাইটিস), তাতে বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত চলাচল কমে যায়
- প্লীহা, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে
লক্ষণ
প্রথম দিকের লক্ষণ
- প্রচণ্ড অবসাদ ও দুর্বলতা, শরীরে শক্তি না পাওয়া
- হালকা জ্বর, কিছুতেই ভালো না লাগা
- হঠাৎ ওজন কমতে থাকা
- সকালে ঘুম থেকে উঠে হাত ও পায়ের আঙুল আড়ষ্ট হয়ে থাকা। আঙুল সোজা বা নাড়াতে ব্যথা লাগে। এই অবস্থা প্রায় এক ঘণ্টা থাকে
- হাত পায়ের আঙুলের জয়েন্টে চাপ দিলে প্রচণ্ড ব্যথা
- জয়েন্ট ফুলে যাওয়া বা লাল হওয়া
রোগ বাড়লে
- খাবারে রুচি কমে যাওয়া, মুখ শুকনো লাগা
- একসঙ্গে অনেকগুলো জয়েন্ট আক্রান্ত হওয়া, ডান ও বাম দুই দিকেই সমানভাবে
- জয়েন্ট গরম হওয়া, ওপরের চামড়া লাল হওয়া, আশপাশে গুটি হওয়া
- জয়েন্ট নাড়ানোর সীমা কমে যাওয়া, শক্ত ও স্থবির হয়ে যাওয়া
- জয়েন্টের আকৃতি বিকৃত হয়ে যাওয়া
- ব্যথার জন্য খুঁড়িয়ে হাঁটা
- ঘুমের ব্যাঘাত
- সারা শরীরের মাংসপেশিতে ব্যথা
- শ্বাসকষ্ট (ফুসফুস আক্রান্ত হলে)
- রক্তশূন্যতা
- হতাশা, বিষণ্নতা ও সামাজিক কাজ থেকে সরে যাওয়া
কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়
এই রোগ নিশ্চিত করার জন্য একটিমাত্র নির্দিষ্ট ল্যাবরেটরি পরীক্ষা নেই। চিকিৎসক ধৈর্য ধরে রোগের পুরো ইতিহাস শোনেন এবং রোগীকে পরীক্ষা করেন। এর সঙ্গে সাহায্য করে:
- রক্তের কিছু পরীক্ষা (তবে নিশ্চিত হওয়ার মতো কোনো একক টেস্ট নেই)
- আক্রান্ত জয়েন্টের এক্স-রে
রোগ নির্ণয়ে রোগীকে একাধিকবার চিকিৎসকের কাছে আসতে হতে পারে।
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন
- হাতের আঙুলে ব্যথা, ফোলা ও জয়েন্টে আড়ষ্টতা
- সকালে ঘুম থেকে উঠে আঙুলের আড়ষ্টতা আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা থাকলে
- হালকা জ্বর ও অবসাদ
- দুই হাতে বা দুই পায়ের আঙুলে একই রকম লক্ষণ
যত তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু করবেন, তত তাড়াতাড়ি লক্ষণ নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং জয়েন্টের ক্ষতি কম হবে।
চিকিৎসা
সম্পূর্ণ নিরাময়ের চিকিৎসা এখনো জানা নেই। তবে চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ ও জীবনযাপনের নিয়ম মানলে অনেকটাই ভালো থাকা যায়।
চিকিৎসার লক্ষ্য
- প্রদাহ কমানো
- জয়েন্টের কাজের ক্ষমতা ধরে রাখা ও বাড়ানো
- জয়েন্ট নষ্ট বা বিকৃত হওয়া ঠেকানো
- লক্ষণমুক্ত জীবনযাপন
সঠিক চিকিৎসার মূল কথা
- রোগ সম্পর্কে সঠিকভাবে জানা
- অতিরিক্ত ঠান্ডা ও গরম থেকে জয়েন্ট বাঁচানো
- ব্যথা ও ফোলা বেশি থাকলে বিশ্রাম নেওয়া
- সঠিক সময়ে সঠিক ব্যায়াম
- চিকিৎসকের পরামর্শে মাংসপেশির শক্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা
- জয়েন্টকে সুরক্ষা দেওয়া
- ধৈর্য ধরা
- রোগী, পরিবার ও চিকিৎসকের মধ্যে সহযোগিতা
ওষুধ
কোনো একটি নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। চিকিৎসকের পরামর্শমতো কিছু ওষুধ খেতে হয়। অনিয়মিতভাবে খাওয়া বা নিজে নিজে ওষুধ বদলানো উচিত নয়। বাজারে দামি ও সস্তা অনেক ওষুধ আছে, কার্যকারিতায় বেশি পার্থক্য নেই। চিকিৎসকের পরামর্শে খেয়ে দেখুন কোনটি আপনার জন্য ভালো কাজ করে।
খাবারদাবার
সঠিক খাবার প্রদাহ কমাতে খুব সাহায্য করে।
যেসব খাবার প্রদাহ কমায়
- ওমেগা ৩ সমৃদ্ধ তৈলাক্ত মাছ: ইলিশ, টুনা, স্যামন, হেরিং এবং আমাদের দেশের সব মাছ
- সয়াবিন তেল, ক্যানোলা তেল ও সব ধরনের বাদাম
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন (এ, সি, ই): পুঁইশাক বা পালংশাক, বিভিন্ন সিমের বীজ, কাঁচা হলুদ, আদা, রসুন, ডিম, জামজাতীয় ফল (বেরি), ডার্ক চকলেট
- প্রচুর আঁশযুক্ত খাবার ও পূর্ণ শস্য। গবেষণায় দেখা গেছে, আঁশ শরীরের প্রদাহ কমায়
- তাজা সবুজ ও রঙিন শাকসবজি এবং সব ধরনের তাজা ফল
- ফ্লাভোনয়েডসমৃদ্ধ খাবার: সয়াজাত খাবার, গ্রিন টি, কাঁচা হলুদ, ব্রকোলি, বাঁধাকপির পাতা, রঙিন সবজি
যেসব খাবার প্রদাহ বাড়ায় (এড়িয়ে চলুন)
- প্রক্রিয়াজাত খাবার: কোমল পানীয়, ফলের জুস, কেক, পেস্ট্রি ও বেকারির খাবার, সাদা আটা, সাদা চাল
- সম্পৃক্ত চর্বি: তৈলাক্ত মাংস ও লাল মাংস (খাসি, গরু), চামড়াসহ হাঁস ও মুরগির মাংস, ঘি, পনির, ক্রিম, মাখন, পাম অয়েল, নারকেল তেল
- অতিরিক্ত লাল মাংস
সম্পূরক
ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়াম, ফলিক অ্যাসিড, গ্লুকোসামিন ও কনড্রয়টিন। সবই চিকিৎসকের পরামর্শমতো নিতে হবে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাথমিক অবস্থায় টেট্রাসাইক্লিন ও মিনোসাইক্লিন ভালো কাজ করে, তবে এগুলোও কেবল চিকিৎসকের পরামর্শে।
ব্যায়াম ও বিশ্রাম
ব্যায়ামের মতোই দরকার প্রচুর বিশ্রাম। ব্যথা ও অন্যান্য লক্ষণ বেশি থাকলে ব্যায়াম না করে বিশ্রামে থাকুন।
চিকিৎসকের পরামর্শমতো করা যায়:
- হালকা হাঁটাহাঁটি
- তিন তলা পর্যন্ত সিঁড়িতে ওঠানামা। সবসময় রেলিং ধরুন, এক ধাপ এক ধাপ করে চলুন। ওঠার সময় যে পায়ে ব্যথা কম সেটি আগে ফেলুন, নামার সময় যে পায়ে ব্যথা বেশি সেটি আগে ফেলুন
- সাইকেল চালানো
- নাচ, খুব ভালো ব্যায়াম
- সাঁতার (ঠান্ডা পানি এড়িয়ে)
- যোগব্যায়াম
- মাংসপেশি টান টান করার ব্যায়াম
দৌড়ানো ও মাঠে খেলাধুলা না করাই ভালো।
ব্যায়ামের উপকার
- হাড় ও মাংসপেশি সক্ষম থাকে
- জয়েন্ট নষ্ট হওয়া দেরি হয়
- অবসাদ ও হতাশা কমে
- ব্যথা কমে
- হাঁটাচলা স্বাভাবিক থাকে
- উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে
আইসোমেট্রিক ব্যায়াম
এই ব্যায়ামে মাংসপেশি জোরে সংকুচিত হয়, কিন্তু জয়েন্ট নড়ে না। চিকিৎসকের শেখানো মতো করুন। যেমন বুক ও হাতের ব্যায়ামে দুই হাতের তালু একটির ওপর আরেকটি যতটা সম্ভব জোরে চেপে ১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। দিনে ৫ বার করুন।
এর উপকার: হাড় শক্ত হয়, হৃদযন্ত্র দৃঢ় হয়, কোষে রক্ত চলাচল বাড়ে, ব্যথা কমে ও কাজের শক্তি বাড়ে।
দৈনন্দিন জীবনের কিছু সহজ পরামর্শ
- সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান খুঁজুন
- হাত ও কব্জিতে ব্যথা থাকলে ব্যাগ হাতে না ঝুলিয়ে কাঁধে ঝোলান
- গোসল: মৃদু গরম পানিতে করুন। হাতে পায়ে বা শরীরে ঠান্ডা পানি লাগাবেন না। বন্ধ ঘরে গোসল করুন, শরীর ঢেকে বের হোন, হঠাৎ ঠান্ডা বাতাস লাগাবেন না
- জুতা: পায়ে ব্যথা থাকলে নরম সোলের ফিতাবিহীন জুতা পরুন
- গাড়িতে ওঠানামা: আগে সিটে বসে পরে পা ভেতরে তুলুন। নামার সময় আগে পা বের করে পরে সিট থেকে উঠুন। উঁচু গাড়িতে হ্যান্ডেল ধরুন, তাড়াহুড়ো করবেন না
- ভারী জিনিস তোলা: কাছে গিয়ে হাঁটু মুড়ে বসে দুই হাতে শরীরের কাছাকাছি ধরে আস্তে আস্তে সোজা হোন
- শীতে পা গরম রাখার প্যাড ও মোজা ব্যবহার করুন। শাড়ির নিচে ট্রাউজার পরুন
- বড় ড্রয়ার বা ক্যাবিনেট পিঠের চাপ বা গোড়ালি দিয়ে বন্ধ করুন
- নিজের কাজ নিজে করুন, তবে একবারে শেষ করতে যাবেন না। অল্প অল্প করে সময় নিয়ে করুন
- রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে না থেকে চাকাওয়ালা চেয়ার ব্যবহার করুন
- চিকিৎসকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন
হঠাৎ লক্ষণ বেড়ে যাওয়া (ফ্লেয়ার আপ)
ফ্লেয়ার আপ (Flare up) মানে হঠাৎ জ্বলে ওঠা। এ সময় লক্ষণ বেড়ে যায় এবং কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ থাকতে পারে। এরপর কিছুদিন, কখনো কয়েক সপ্তাহ বা এমনকি কয়েক বছর, রোগী ভালো থাকেন। তারপর অনিয়মের কারণে বা কোনো কারণ ছাড়াই আবার বাড়তে পারে। রোগীকে এটা ভালোভাবে বুঝে রাখতে হবে।
ফ্লেয়ার আপের কারণ সবসময় জানা যায় না। তবে অনেক সময় শরীরের কোনো সংক্রমণ বা অতিরিক্ত মানসিক চাপ থাকে। ঘনঘন হলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন, চিকিৎসায় বদল লাগতে পারে।
নিজে যা করতে পারেন
- দেওয়া ওষুধ ঠিক নিয়মে ও ঠিক মাত্রায় খান
- হালকা ব্যায়ামে শরীর সচল রাখুন
- চিকিৎসকের উপদেশ ঠিকভাবে মেনে চলুন
- গরম পানির ব্যাগ ও ঠান্ডা পানির ব্যাগ হাতের কাছে রাখুন
- আশপাশের মানুষকে নিজের অসুস্থতার কথা জানান, যাতে দরকারে সাহায্য করতে পারেন
- গরম ব্যাগ বা বোতল সরাসরি চামড়ায় লাগাবেন না, আগে মোটা তোয়ালে জড়িয়ে নিন
প্রতিরোধ করা যায় কি
নিশ্চিত কোনো প্রতিরোধ জানা নেই। তবে কিছু বিষয় এড়ালে ভালো ফল পাওয়া যায়:
- ধূমপান
- ধুলাবালি (সিলিকা) ও অ্যাসবেস্টস
- দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ, যেমন দাঁতের সংক্রমণ বা শরীরের অন্য কোথাও সংক্রমণ
- ওপরে বলা ক্ষতিকর খাবার। নিয়মিত খান উপকারী খাবার
- ঝামেলামুক্ত জীবনযাপন (বলা সহজ, মানা কঠিন)
- পরিবারের সঙ্গে থাকা
বাতজ্বর (Acute Rheumatic Fever)
এটি আলাদা একটি রোগ, সাধারণত ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশু ও কিশোরদের হয়। একধরনের ব্যাকটেরিয়া শরীরে ঢুকে বিষাক্ত পদার্থ (অ্যান্টিজেন) তৈরি করে, যা স্বাভাবিক কোষ-কলাকে আক্রমণ করে। সাধারণত হৃদযন্ত্র, জয়েন্ট ও চামড়া আক্রান্ত হয়।
লক্ষণ
- জ্বর
- ক্ষুধামন্দা
- অস্বাভাবিক তন্দ্রাভাব ও দুর্বলতা
- বড় জয়েন্ট, যেমন হাঁটু, পায়ের গিঁট, কনুই ও কব্জিতে ব্যথা। জয়েন্ট ফুলে যায়, লাল হয় এবং টিপ দিলে ব্যথা লাগে
- বুকে ব্যথা, হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
- শরীরে লাল দাগ
এ রকম হলে সময় নষ্ট না করে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যান।
এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য। কোনো ওষুধ বা সম্পূরক চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শুরু বা বন্ধ করবেন না।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের প্রাথমিক লক্ষণগুলো কীভাবে চেনা যায়?
সকালে ঘুম থেকে উঠে হাত ও পায়ের আঙুল আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা আড়ষ্ট হয়ে থাকে এবং সোজা করতে ব্যথা লাগে। এর সঙ্গে আঙুলের জয়েন্ট ফুলে যাওয়া, চাপ দিলে প্রচণ্ড ব্যথা, হালকা জ্বর এবং প্রচণ্ড অবসাদ দেখা দেয়।
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস কি পুরোপুরি ভালো হয়?
না, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী অটোইমিউন রোগ এবং এর সম্পূর্ণ নিরাময়ের চিকিৎসা এখনো জানা নেই। তবে যত তাড়াতাড়ি চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ ও জীবনযাপনের নিয়ম মানা যায়, তত ভালোভাবে প্রদাহ কমিয়ে ও জয়েন্টের ক্ষতি ঠেকিয়ে ভালো থাকা সম্ভব।
গাঁটের বাতের প্রদাহ কমাতে কোন খাবারগুলো উপকারী এবং কোনগুলো এড়ানো উচিত?
ইলিশসহ দেশি মাছ, বাদাম, কাঁচা হলুদ, আদা, রসুন, পূর্ণ শস্য এবং তাজা ফল ও শাকসবজি প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে গরু-খাসির মতো লাল মাংস, ঘি, মাখন, কোমল পানীয়, বেকারির খাবার এবং সাদা চাল ও সাদা আটা এড়িয়ে চলা উচিত।
এই লেখাটি শুধুমাত্র স্বাস্থ্য-সচেতনতার জন্য। এটি চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। আপনার সমস্যার সঠিক নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য অবশ্যই একজন যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।