পায়ের নখের নানা সমস্যা নিয়ে রোগীরা আসেন, তার মধ্যে নখের কোনা বসে যাওয়া (Ingrowing Toe Nail) অন্যতম। এটি সাধারণত পায়ের আঙুলে হয়, হাতে খুব কম। পায়ের আঙুলের মধ্যে বেশিরভাগ সময় বুড়ো আঙুলে হয়। একসঙ্গে দুই পায়েই হতে পারে, পুরুষ ও নারী দুজনেরই হয়। বংশগতভাবেও হতে পারে। যাঁদের ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ আছে, তাঁদের জন্য এই সাধারণ সমস্যাও মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।
আসলে কী ঘটে
নখের কোনা ও পাশের অংশ ধীরে ধীরে নিচের দিকে বাড়তে থাকে এবং চামড়া ভেদ করে মাংসের ভেতরে ঢুকে যায়।
কেন হয়
সঠিক কারণ জানা নেই। তবে কিছু ঝুঁকির কারণ আছে:
- আঙুলের সামনে আঘাত, যেমন জোরে হোঁচট খাওয়া
- খুব টাইট জুতা পরা
- সামনের দিকে সরু ও চাপা জুতা
- নখ খুব ছোট করে কাটা, গোল করে কাটা বা কোনা কেটে ভেতরের দিকে নিয়ে যাওয়া
- সবসময় ভারী ওজন বহনের কাজ
- ওজন বাড়া, সঙ্গে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ
- জন্মগতভাবে নখ বেশি বাঁকা থাকা
- পায়ের ঠিকমতো যত্ন না নেওয়া
লক্ষণ
শুরুতে আঙুলে সামান্য ব্যথা থাকে। ব্যবস্থা না নিলে পরে অবস্থা মারাত্মক হয়।
- আঙুলে ব্যথা, চাপ দিলে ব্যথা বাড়া
- নখের এক পাশে বা দুই পাশে ব্যথা
- আঙুল লাল হয়ে যাওয়া, নখের পাশের চামড়া ও মাংস ফুলে ওঠা, নখ মাংসের ভেতরে ঢুকে যাওয়া
- জ্বর আসা এবং ব্যথা ও ফোলা আরও বাড়তে থাকা
ঘরে সাধারণ চিকিৎসা
- সাবান পানিতে পা ধুয়ে শুকনো রাখুন
- সঠিক মাপ ও আকারের জুতা পরুন
- সাধারণ ব্যথার ওষুধ খেতে পারেন
- রোগের শুরুতে নখের কোনায় অভ্যাস করার মতো কিছু কৌশল আছে। অভিজ্ঞ সার্জনের কাছ থেকে শিখে নিয়ে প্রয়োগ করা যায়
- টো প্রোটেক্টর বা টো ব্রেস (Toe Protector, Toe Brace) ব্যবহার করতে পারেন
জটিলতা
- ডায়াবেটিস থাকলে ধীরে ধীরে আঙুলের হাড়ে ইনফেকশন হতে পারে
- আঙুলে পচন ধরতে পারে (গ্যাংগ্রিন)
- বারবার হতে পারে, একাধিক আঙুলে বা দুই পায়েই হতে পারে
- আঙুল স্থায়ীভাবে বিকৃত হতে পারে
- হাড়ে ইনফেকশন ছড়ালে খুবই মারাত্মক হতে পারে, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা লাগতে পারে
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন
শুরুতে সামান্য মনে হলেও এটি বড় জটিলতা তৈরি করতে পারে। নিচের যে কোনোটি থাকলে সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:
- ডায়াবেটিস (নিয়ন্ত্রিত বা অনিয়ন্ত্রিত)
- উচ্চ রক্তচাপ
- কোনো কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে
- আঙুলে প্রচণ্ড ব্যথা ও ফোলা
- ব্যথার সঙ্গে জ্বর বা সংক্রমণের লক্ষণ
- ঘরে ওষুধ খেয়েও উন্নতি না হলে
- এ বিষয়ে চিকিৎসককে কোনো প্রশ্ন করার থাকলে
প্রতিরোধের সহজ উপায়
সাধারণ কিছু উপদেশ মানলেই এটি ঠেকানো যায়, কিন্তু একটু অবহেলায় রূপ নিতে পারে মারাত্মক।
- সঠিক মাপের জুতা বা চপ্পল পরুন, যার সামনের দিক চওড়া
- আঙুলে সরাসরি আঘাত না লাগে, সেভাবে সতর্ক চলুন
- যাঁদের পা বেশি ঘামে, মোজা পরিষ্কার ও অবশ্যই শুকনো রাখুন
- নখ সোজা করে কাটুন। নখের কোনা যেন আঙুলের চামড়ার বাইরেও একটু বড় থাকে। কখনো কোনা গোল করে কাটবেন না। প্রতিরোধের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় সতর্কতা
- যাঁরা ভারী ওজন বহন করেন, তাঁরা আরও সতর্ক থাকুন
- ডায়াবেটিসের রোগীরা পায়ের বিশেষ যত্ন নিন। পা রাখুন মুখের মতো পরিষ্কার
- টো প্রোটেক্টর বা টো ব্রেস ব্যবহার করতে পারেন
প্রশ্ন ও উত্তর
এটা কি আপনা আপনি ভালো হয়?
না। অপেক্ষা করে বসে থাকা ঠিক নয়। যথাযথ চিকিৎসা শুরু করুন, নইলে আঙুলে পচন ধরতে পারে।
এতে কি জীবন বিপন্ন হতে পারে?
হ্যাঁ, বিশেষ করে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থাকলে।
সঠিক চিকিৎসায় ভালো হতে কতদিন লাগে?
সাধারণত এক থেকে দুই সপ্তাহ।
নখের নিচে পুঁজ জমলে কী করব?
পুঁজ বের করতেই হবে, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের হাতে।
হাই হিল জুতায় কি অসুবিধা আছে?
না, শুধু দেখতে হবে জুতার সামনের দিক যেন সরু না হয়।
এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য। নখ বসে গিয়ে ব্যথা, ফোলা বা পুঁজ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
নখের কোনা বসে গেলে কি আপনা আপনি ভালো হয়?
না, এটি আপনা আপনি ভালো হয় না, তাই অপেক্ষা করে বসে থাকা ঠিক নয়। দ্রুত যথাযথ চিকিৎসা না নিলে আঙুলে ইনফেকশন বা গ্যাংগ্রিন (পচন) ধরতে পারে, বিশেষ করে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থাকলে জীবনও বিপন্ন হতে পারে।
নখের কোনা বসে যাওয়া প্রতিরোধে নখ কীভাবে কাটতে হবে?
নখ সবসময় সোজা করে কাটতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে যেন নখের কোনা আঙুলের চামড়ার বাইরেও একটু বড় থাকে। কখনোই নখের কোনা গোল করে বা খুব ছোট করে ভেতরের দিকে কাটবেন না।
নখের নিচে পুঁজ জমলে কী করা উচিত এবং সারতে কতদিন লাগে?
নখের নিচে পুঁজ জমলে নিজে কিছু না করে অবশ্যই চিকিৎসকের মাধ্যমে পুঁজ বের করাতে হবে। সঠিক চিকিৎসা নিলে সাধারণত এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এটি ভালো হয়ে যায়।
এই লেখাটি শুধুমাত্র স্বাস্থ্য-সচেতনতার জন্য। এটি চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। আপনার সমস্যার সঠিক নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য অবশ্যই একজন যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।