ডায়াবেটিস শব্দের সহজ মানে হলো বেশি মাত্রায় প্রস্রাব হওয়া। ডায়াবেটিস মেলাইটাস (Diabetes Mellitus) দুই ধরনের, টাইপ ১ ও টাইপ ২। বেশিরভাগ মানুষ টাইপ ২ ডায়াবেটিসে ভোগেন। এই লেখায় শুধু টাইপ ২ নিয়েই কথা বলা হয়েছে এবং একে সংক্ষেপে "ডায়াবেটিস" বলা হয়েছে।
ডায়াবেটিস কী
ডায়াবেটিস ইনসুলিন (Insulin) নামের একটি হরমোনের অভাব বা অকার্যকারিতার রোগ। ইনসুলিন তৈরি হয় অগ্ন্যাশয় (Pancreas) নামের গ্রন্থিতে। ইনসুলিন তৈরি বন্ধ হলে, কমে গেলে, কিংবা তৈরি হলেও শরীরের কোষ তা কাজে লাগাতে না পারলে ডায়াবেটিস হয়।
ডায়াবেটিস একটি নীরব ঘাতক। অনেক বছর ধরে রোগ থাকলেও রোগী টের পান না। বেশিরভাগ সময় কোনো জটিলতা নিয়ে ডাক্তারের কাছে এসে প্রথম ডায়াবেটিস ধরা পড়ে, ততদিনে শরীরের ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে।
ইনসুলিন কী করে
ইনসুলিন শরীরের প্রধান কোষ গঠনকারী হরমোন। এটি শর্করা, আমিষ ও চর্বির বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।
- রক্ত থেকে গ্লুকোজ কোষে ঢুকতে সাহায্য করে, যাতে কোষ শক্তি পায় এবং রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে থাকে
- ভবিষ্যতের জন্য লিভার, মাংসপেশি ও চর্বির কোষে গ্লুকোজ জমা রাখে
- আমিষ ও চর্বি হঠাৎ ভেঙে যাওয়া ঠেকায়
- পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ কোষে ঢুকতে সাহায্য করে
- কোষের ভেতরের পানি স্বাভাবিক রাখে
- মস্তিষ্কে শেখার ক্ষমতা, স্মৃতিশক্তি ও বোধশক্তি বাড়ায়
ইনসুলিনের অভাবে কী হয়
- কোষে গ্লুকোজ ঢুকতে না পেরে রক্তে বেড়ে যায়, প্রস্রাব বেশি হয়
- আমিষ বেশি ভাঙে, ফলে অনেক খেয়েও ওজন কমতে থাকে
- কোষের ভেতরের পানি কমে, শরীর শুকনো লাগে, সবসময় তৃষ্ণা পায়
- চর্বি বেশি ভাঙে, চামড়া ঝুলে যায়, কুঁচকে যায়, বয়স্ক দেখায়
কেন হয়
সঠিক কারণ জানা নেই। তবে কিছু বিষয় ঝুঁকি বাড়ায়:
- পরিবারে ডায়াবেটিস থাকা (বাবা মা, দাদা দাদী, নানা নানী)
- অতিরিক্ত ওজন। শরীরে চর্বি যত বাড়ে, ঝুঁকি তত বাড়ে
- শারীরিক ও মানসিক চাপ
- অগ্ন্যাশয় নষ্ট হওয়া
- উচ্চ রক্তচাপ
- ধূমপান
- বয়স বাড়া
- গর্ভাবস্থা
- অলসতা। শারীরিক পরিশ্রম যত কম, ঝুঁকি তত বেশি
ডায়াবেটিসের লক্ষণ
- বেশি বেশি পানি পানের ইচ্ছা, তবু তৃষ্ণা না মেটা
- পেট ভরে খেয়েও ক্ষুধা থাকা
- মুখ সবসময় শুকনো থাকা
- বারবার প্রস্রাব
- প্রচুর খেয়েও ওজন কমা
- শরীর নিস্তেজ ও দুর্বল লাগা
- চোখে ঝাপসা দেখা
- হাত পায়ে অবশ ভাব, কাঁটা কাঁটা লাগা
- কেটে গেলে বা ছিঁড়ে গেলে ক্ষত সহজে না শুকানো
- চামড়া শুকনো লাগা, চুলকানি
- প্রস্রাবে বারবার সংক্রমণ
- শরীরের যে কোনো জায়গায় ছত্রাক সংক্রমণ
রক্তে সুগার কমে গেলে (৯০ mg/dl এর নিচে)
- শরীর দুর্বল লাগা, মাথা ঝিমঝিম করা
- প্রচণ্ড ক্ষুধা
- হাত কাঁপা
- ঘাম হওয়া
- বুক ধড়ফড় করা
- চামড়া ফ্যাকাশে হওয়া
- উদ্বেগ, ভয়, দ্বিধা
- মাথাব্যথা
- সিদ্ধান্ত নিতে না পারা, কাজে সমন্বয়ের অভাব
- দুঃস্বপ্ন দেখা
- মুখ ও জিহ্বায় অবশ ভাব
- খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, এমনকি মৃত্যু
সাবধানতা: ডায়াবেটিসের রোগী সবসময় সঙ্গে কিছু মিষ্টি রাখবেন, যেমন চিনির কিউব বা মিষ্টি শুকনো বিস্কুট। খাবার সঠিক সময়ে খাবেন, কোনো বেলার খাবার কোনোভাবেই বাদ দেবেন না।
রক্তে সুগার খুব বেড়ে গেলে
- খুব বেশি তৃষ্ণা ও ক্ষুধা
- চোখে ঝাপসা দেখা
- বারবার প্রস্রাব
- হাত পায়ে অবশ ভাব
- চামড়া শুকনো, ঘাম না হওয়া
- দুর্বলতা, অবসাদ, মাথাব্যথা
রক্তে ও প্রস্রাবে কিটোন (Ketone) পাওয়া গেলে তাকে কিটোঅ্যাসিডোসিস বলে। এটি খুবই মারাত্মক অবস্থা। এর লক্ষণ:
- নিঃশ্বাসে মিষ্টি ফলের গন্ধ
- বমি বমি ভাব
- দ্রুত নিঃশ্বাস
- মুখ ও চামড়া শুকনো
- খুব দুর্বলতা ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থা
- পেটে ব্যথা
- অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, মৃত্যুও হতে পারে
হঠাৎ সুগার বেড়ে যাওয়ার কারণ: নিয়মিত ওষুধ না খাওয়া, সঠিক খাবার না খাওয়া বা বেশি খাওয়া, শরীরে সংক্রমণ বা অন্য অসুস্থতা, কাজকর্ম না করা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ।
ডায়াবেটিস রোগীর জন্য সাধারণ উপদেশ
- ওজন স্বাভাবিক রাখুন
- সপ্তাহে অন্তত একদিন রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা করুন
- অন্তত তিন মাসে একবার HbA1c পরীক্ষা করুন
- রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন
- পায়ের আঙুল ঢাকা জুতা বা চপ্পল পরুন
- চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত ব্যায়াম করুন
- হাঁটতে গিয়ে পায়ে দুর্বলতা লাগলে লাঠি নিয়ে হাঁটুন, পড়ে যাওয়া ঠেকান
- পানি গরম কি না দেখতে হাতের আঙুল ব্যবহার করবেন না
- সাবধানে চলুন, হোঁচট খাবেন না, অসমান জায়গায় আরও সতর্ক থাকুন
- পর্যাপ্ত ঘুমান, মানসিক চাপ কমান
- নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
- বছরে অন্তত একবার চোখ, হার্ট, কিডনি ও স্নায়ু পরীক্ষা করান
দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা
জটিলতা ধীরে ধীরে শুরু হয়। বছরের পর বছর অনিয়ন্ত্রিত থাকলে তা প্রকট হয়।
- হার্ট: বুকে ব্যথা, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক
- স্নায়ু (Neuropathy): হাত পায়ে কাঁটা কাঁটা ভাব, অবশ ভাব, জ্বালাপোড়া ও ব্যথা। শুরু হয় আঙুলের মাথায়, তারপর ছড়িয়ে পড়ে। শেষে অনুভূতিই নষ্ট হয়ে যায়
- পুরুষের যৌন দুর্বলতা
- কোষ্ঠকাঠিন্য
- কিডনি নষ্ট হওয়া, শেষে বিকল হওয়া
- চোখের জ্যোতি কমা, ছানি ও গ্লুকোমা
- পায়ে ঘা, যা সহজে শুকায় না। অনেক সময় পা কেটে ফেলতে হয়
- চামড়ায় ঘা ও চুলকানি
- শ্রবণশক্তি ও স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া
- বিষণ্নতা, যার ফলে চিকিৎসা ও উপদেশ মেনে চলা কঠিন হয়
শরীরের এমন কোনো অঙ্গ নেই, যা ডায়াবেটিসে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। তাই বলা হয়, ডায়াবেটিস হলে আর কোনো রোগের দরকার নেই, ডায়াবেটিসই একা সব ক্ষতি করতে পারে।
হাড়, মাংসপেশি ও জয়েন্টে কী ক্ষতি হয়
- মাংসপেশি ও চর্বি বেশি ভাঙে, শরীর ভেঙে যায়, মুখ মলিন দেখায়, হাঁটার শক্তি কমে, পা দুর্বল লাগে
- রগ (Tendon) ও লিগামেন্টে অস্বাভাবিক কোষ জমে এগুলো মোটা হয়ে যায় এবং জয়েন্টের স্বাভাবিক কাজে বাধা দেয়। ছোট রক্তনালী নষ্ট হওয়ায় সব ধরনের কোষ-কলাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়
- মাংসপেশি, রগ ও লিগামেন্ট দুর্বল হওয়ায় জয়েন্টের ওপর নিয়ন্ত্রণ কমে যায়। জয়েন্ট দৃঢ়তা হারায়, আকৃতি বদলাতে পারে
- স্নায়ু নষ্ট হলে মাংসপেশি দুর্বল হয়, হাত পায়ের কাজের দৃঢ়তা থাকে না
- সারা শরীরের হাড়ে ক্ষয় (অস্টিওপোরোসিস) দেখা দিতে পারে। ওজন বহনকারী হাড় সহজে বা আপনা আপনি ভেঙে যায়
মাংসপেশি দুর্বল হয় দুইভাবে: স্নায়ু আক্রান্ত হলে, আবার ডায়াবেটিস সরাসরি মাংসপেশি ভেঙে দিলে (Myopathy)। পায়ের মাংসপেশি দুর্বল হলে হাঁটতে গিয়ে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
মাংসপেশির দুর্বলতা ঠেকাবেন যেভাবে
- ডায়াবেটিস ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করুন
- নিয়মিত হাঁটুন ও অন্যান্য ব্যায়াম করুন
- দিনে অন্তত আট ঘণ্টা ঘুমান
- সঠিক খাবার সঠিক পরিমাণে খান, কোনো বেলা বাদ দেবেন না
- মন ভালো রাখুন, কারণ বিষণ্নতা কাজের ইচ্ছা কমিয়ে দেয়
- নিজের কাজ নিজে করুন
- নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ নিন
প্রতিরোধ
পরিবারে ডায়াবেটিস থাকলেও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে অনেক বছর ঠেকিয়ে রাখা যায়।
- সুষম খাবার: তেল ও চিনি কম, সবুজ ও রঙিন শাকসবজি, ফলমূল ও আঁশযুক্ত খাবার বেশি
- ধূমপান বাদ দিন
- নিজের কাজ নিজে করুন: কাপড় ধোয়া, বাজার করা, ঘর মোছা (খুব ভালো ব্যায়াম), ঝাড়ু দেওয়া
- ওজন স্বাভাবিকের কাছাকাছি রাখুন
- উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন
চল্লিশ বছরের বেশি বয়সে ডায়াবেটিস আছে কি না পরীক্ষা করান। পরিবারে ডায়াবেটিস থাকলে আরও আগে। ডায়াবেটিস না থাকলে প্রতি তিন বছরে একবার পরীক্ষা করান।
ব্যায়াম
- প্রতিদিন কিছু ব্যায়াম করুন, পরপর দুই দিন বাদ দেবেন না
- প্রতি বেলা খাবারের আগে ব্যায়াম করুন
- সুগার খুব কম বা খুব বেশি থাকলে ব্যায়াম করবেন না
- অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শমতো করুন
কী কী করা যায়
- জোরে হাঁটা (নরম জুতা পরে), সম্ভব হলে প্রতিদিন তিন কিলোমিটার
- সাইকেল চালানো
- নাচ
- সাঁতার
- তিন তলা পর্যন্ত সিঁড়ি ভাঙা
- বাগান করা
- যোগব্যায়াম
- জগিং (হাড়ের ক্ষয় থাকলে নাচ ও জগিং না করা ভালো)
শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম: হাতে ওজন বা ইলাস্টিক নিয়ে ব্যায়াম, দেয়ালে ধাক্কা দিয়ে পুশ আপ, ওঠবস। সব চিকিৎসকের শেখানো মতো।
ওজন বেশি এবং একই সঙ্গে হাঁটুতে ব্যথা থাকলে হাঁটাহাঁটির ব্যায়াম না করাই ভালো, এতে হাঁটু আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন কী করবেন, চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিন।
খাবারদাবার
সঠিক ও পরিমিত খাবার ডায়াবেটিস ও তার জটিলতা অনেকটাই ঠেকাতে পারে। কোনো খাবারই একেবারে নিষেধ নয়, চিকিৎসকের পরামর্শমতো পরিমাণ ঠিক করে সবই খাওয়া যায়।
ভালো চিনি, খারাপ চিনি
কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের খাবার হলো "ভালো চিনি"। এসবের চিনি ধীরে ধীরে রক্তে আসে, তাই শরীর রক্তের সুগার সামলানোর সময় পায়। দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা এড়াতে এটি খুব উপকারী।
বেশি খাবেন (ভালো):
- লাল চাল, ঢেঁকিছাঁটা চাল, কুঁড়াসহ চাল
- লাল আটা (ভুসিসহ)
- মিষ্টি আলু, ওটমিল
- টক জাতীয় সব ফল, পেয়ারা, আপেল, কমলা, জাম ও বেরি জাতীয় ফল
- সব ধরনের সবুজ, লাল ও রঙিন শাক, মটরশুঁটি, গাজর, টমেটো, সিম জাতীয় খাবার, মসুর ডাল, বাঁধাকপি, ফুলকপি, লেটুস, পুঁইশাক, ঢেঁড়স, বরবটি, কাঁচা মরিচ, ব্রকলি
কম খাবেন বা এড়াবেন (খারাপ):
- চিনি, গুড়, মধু
- সাদা চাল, সাদা রুটি, ময়দা, আলু
- মিষ্টি বিস্কুট, পেস্ট্রি, কেক ও বেকারির অন্য মিষ্টি খাবার
- কোমল পানীয় ও টিনের বা প্যাকেটের ফলের রস
- তরমুজ
ফলের পরিমাণ (সবই পরিমিত): আঙুর এক দুইটা, আনারসের একটি ছোট ফালি, আমের এক ফালি, বড় কলার অর্ধেক। শুকনো ফল খুব অল্প।
আঁশ কেন জরুরি
আঁশ হজম হয় না, প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় মলের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। এটি দুই ধরনের।
- দ্রবণীয় আঁশ: পানিতে জেলির মতো হয়। খারাপ কোলেস্টেরল কমায় এবং রক্তের সুগার স্বাভাবিক রাখে। পাওয়া যায় সব ধরনের সিম ও মটরশুঁটিতে, লেবুজাতীয় ফল ও আপেলে, ইসবগুলের ভুসিতে, বাদামে, ওটে ও গাজরে
- অদ্রবণীয় আঁশ: মলের পরিমাণ বাড়ায়, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়, মলত্যাগ নিয়মিত করে। পাওয়া যায় লাল চাল, লাল আটা, সবুজ শাকসবজি, সিম ও মটরশুঁটিতে
দুই ধরনের আঁশই খাওয়া উচিত।
আঁশের উপকার: খারাপ কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ কমে, দ্রবণীয় আঁশ খাদ্যনালী থেকে শর্করা শোষণ ধীর করে বলে সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে, পরিপাকতন্ত্র ভালো থাকে এবং দীর্ঘদিনের পাতলা পায়খানাও স্বাভাবিক হয়।
বেশি আঁশ পেতে
- সকালের নাশতা থেকেই আঁশযুক্ত খাবার খান
- পূর্ণ শস্য খান
- প্রতি বেলায় সিম, ডাল বা মটরশুঁটি রাখুন
- প্রতি বেলায় সবুজ ও রঙিন সবজি খান
- প্রচুর পানি পান করুন, কারণ আঁশ পানি পেলে ফুলে ওঠে এবং সবচেয়ে ভালো কাজ করে
আমিষ আর তেল দরকার
তেল ও চর্বি: তেলজাতীয় খাবার অন্ত্র থেকে রক্তে শর্করা যাওয়া ধীর করে। তবে প্রাণীজ চর্বি যতটা পারা যায় এড়িয়ে উদ্ভিজ্জ চর্বি বাড়ান। উৎস: অলিভ অয়েল, সানফ্লাওয়ার অয়েল, সয়াবিন অয়েল (এই ক্রমে ভালো), সব ধরনের বাদাম ও বীজ, অ্যাভোকাডো (দামি কিন্তু নিরাপদ)। চর্বি পেট ভরা রাখে এবং অতিরিক্ত খাওয়া ঠেকায়।
আমিষ: আমিষ শরীরের শক্তি জোগাতে সাহায্য করে, শর্করার চাহিদা কমায়, রক্তের সুগার স্থির রাখে এবং মিষ্টির আকুলতা কমায়। যথাযথ আমিষ থাকলে পেট ভরা লাগে, ক্ষুধা কম লাগে। যতটা সম্ভব সবজি থেকে আমিষ নিন: সিম ও অন্যান্য বীজ, মসুর ডাল ও অন্য ডাল, সবুজ ও রঙিন শাকসবজি, মটরশুঁটি, সামুদ্রিক সবজি, সয়াজাত খাবার, অঙ্কুরিত ছোলা, বাদাম, ফুলকপি, বাঁধাকপি। অল্প পরিমাণে চামড়া ছাড়া মুরগি ও সামুদ্রিক মাছ।
ডায়াবেটিসের সুপারফুড: মসুর ডাল, দারুচিনি, চিয়া সিড, স্যামন মাছ এবং হোয়াইট বালসামিক ভিনেগার। পেলে খুবই উপকারী।
কোন খাবার আপনার জন্য কতটা দরকার, চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিন। প্রত্যেক মানুষ আলাদা, তাই উপদেশও আলাদা।
এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য। ওষুধ ও খাবারের পরিকল্পনা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করুন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
ডায়াবেটিসে হাড়, মাংসপেশি ও জয়েন্টের কী ক্ষতি হয়?
ডায়াবেটিসে মাংসপেশি ভেঙে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রগ ও লিগামেন্ট মোটা হয়ে জয়েন্টের স্বাভাবিক কাজে বাধা দেয়। পাশাপাশি সারা শরীরের হাড়ে ক্ষয় বা অস্টিওপোরোসিস দেখা দিতে পারে, ফলে ওজন বহনকারী হাড় সহজেই ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
রক্তে সুগার হঠাৎ ৯০ mg/dl-এর নিচে নেমে গেলে কী লক্ষণ দেখা দেয় এবং কী সতর্কতা নেবেন?
সুগার কমে গেলে শরীর দুর্বল লাগা, মাথা ঝিমঝিম করা, প্রচণ্ড ক্ষুধা, হাত কাঁপা, ঘাম হওয়া এবং বুক ধড়ফড় করার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। এজন্য ডায়াবেটিসের রোগীদের সবসময় সঙ্গে চিনির কিউব বা মিষ্টি শুকনো বিস্কুট রাখা এবং সঠিক সময়ে খাবার খাওয়া জরুরি।
ডায়াবেটিস রোগীদের ব্যায়াম করার সময় কোন নিয়মগুলো মানা উচিত?
চিকিৎসকের পরামর্শমতো প্রতিদিন প্রতি বেলা খাবারের আগে কিছু ব্যায়াম করা ভালো এবং পরপর দুই দিন বাদ দেওয়া উচিত নয়। তবে রক্তে সুগার খুব কম বা খুব বেশি থাকলে ব্যায়াম করা যাবে না, আর অতিরিক্ত ওজনের সঙ্গে হাঁটু ব্যথা থাকলে হাঁটাহাঁটি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
এই লেখাটি শুধুমাত্র স্বাস্থ্য-সচেতনতার জন্য। এটি চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। আপনার সমস্যার সঠিক নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য অবশ্যই একজন যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।